মিতুর রান্নাঘর ও ভেজাল গুড়োর গল্প
explore

মিতুর রান্নাঘর ও ভেজাল গুড়োর গল্প

turmeric-and-chili-powder-blog-image

মিতুর মন ভীষণ খারাপ। রান্নাঘরে রান্না করছে আর চোখ টা ছলছল করছে বেচারির। আজও তরকারি টা কটকটে হলদে হয়ে গেল। না চেখেই বুঝতে পারছে, মরিচের গুড়ার মাপও ঠিক হয়নি, নিশ্চিত কোন গড়বড় হয়েছে।

মিতুর বিয়ে হল এক বছর হল প্রায়। শ্বশুরবাড়িতে রান্নাবান্না শুরু করেছে বেশি দিন হয় নি। এইতো সেদিন শাশুড়ি মায়া ভরে বুঝিয়ে দিলেন তার যত্নে গড়া রান্নাঘর টি। মিতুও অনেক আগ্রহের সাথে আঁট বেধে শুরু করল রান্নাবান্নার কঠিন কাজ টি। কিন্তু গত কিছুদিন হল, সব যেন এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে তার।

রান্নায় হলুদ আর মরিচের মাপ ঠিকমতো যেন হচ্ছেই না। যতই হলুদ গুড়া দেয়া হোক, ভালো কালার তো আসেই না, বরঞ্চ কটকটে একটা মন খারাপ করা রঙ হয়ে যায় তরকারির। আর মরিচের কথা আর নাই বা বললাম। ঝালের কিছু তো নেইই, বরং ঝাল বাড়াতে বেশি দিলে তিতকুটে একটা স্বাদে পুর সালুন টাই নষ্ট হয়ে যায়।

জামাই বেচারা বড় ভালো মানুষ, কদিন ধরে খেতে বসে ভালোমতো খেতে না পারলেও অভিযোগ করে নি একটিবারও। খাবার কেমন হয়েছে প্রশ্ন করলে হাসি দিয়ে ভালো হয়েছে বলে অল্প খেয়ে উঠে যাচ্ছে, পাছে স্ত্রী কষ্ট পায়, সেই জন্য কিছু বলেও না। শ্বশুর শাশুড়িরও অবস্থা তথৈবচ। এদিকে মিতুর তো নাওয়া খাওয়া গেল বলে।

কি হবে মিতুর সমস্যার সমাধান?

আমরা জানি, মিতুর মত এরকম অনেক বোনেরাই প্রায় কষ্ট পান এই ধরণের অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতিতে। অথচ, আসলে অনেকে যেটা জানেন না সেটা হল, হলুদ বা মরিচের গুড়া যখন মাপ অনুযায়ী তরকারীতে স্বাদ আনতে ব্যর্থ হয়, তখন বুঝতে হবে, আপনি যে গুড়া রান্নায় ব্যাবহার করছেন, সেটি খাঁটি নয়।

এবার আসুন, হলুদ আর মরিচের গুড়ার কিছু ভয়ঙ্কর ভেজালের কাহিনী আপনাদের শুনাই।

আপনারা যারা পাখি পোষেন বা এই বিষয়ে জানেন, তারা জানেন যে পাখির খাদ্য হিসেবে একধরণের ঘাসের বীজ ব্যবহার করা হয়, যা ছোট কাওন নামেও পরিচিত। কিন্তু আপনারা এটা নিশ্চয়ই জানেন না যে, এই নিরীহ ঘাসের বীজটাকেই ভেজাল মসলা বানানোর মূল উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করে ভেজালকারীরা। কি, অবাক হচ্ছেন?

ভেজাল হলুদ আর মরিচ উৎপাদনকারীরা এই ছোট কাওন গুঁড়ো করে এর সাথে ক্ষতিকর রঙ মেশায়। মরিচের গুড়া বানাতে চাইলে এর সাথে লাল রঙ আর পটকা মরিচ (পচা কাঁচামরিচ) শুকিয়ে গুঁড়ো করে মিশিয়ে দিলে হালকা ঝাল এই পদার্থটিকে যে কোন অভিজ্ঞও মরিচের গুড়ো বলে ভুল করতে পারেন। মিতুরা তো সেদিনের মেয়ে!

আর হলুদ? গুড়ো কাওনের সাথে হলুদ রঙ আর অল্প পরিমানে আসল হলুদ গুড়ো, ব্যস তৈরি হয়ে গেল একেবারে ‘খাঁটি’ ভেজালে ভরা হলুদের গুড়ো!

আজ থেকে আরও ৫, ৬ বছর আগে থেকেই বাজারের নামিদামি ব্র্যান্ডের নামে চালু ছিল ইট আর কাঠের গুড়ো মিশিয়ে হলুদ আর মরিচ গুড়ো বিক্রির অভিযোগ।

কাঠের গুড়ার সাথে রেড অক্সাইড মিলিয়ে মশলায় ভেজাল করার কাহিনী আরো পুরনো। এখানে আমরা ছোটোখাটো কিছু জালিয়াতির অল্প কিছু বিবরন দিলাম মাত্র। বাস্তব অবস্থা এর চেয়ে অনেক ভয়ঙ্কর।

এতো এতো দু নম্বরির কথা শুনে পাঠকগণও বুঝি মিতুর মত হতাশ হয়ে যাচ্ছেন। তবে আপনাদের আত্মবিশ্বাসের সাথে বলছি, হতাশ হবেন না।

আমরা organicmudi টিম, পিউর হলুদ আর মরিচের গুড়া‘র ঢালি নিয়ে আপনাদেরই দরজায় পৌঁছে দেয়ার অপেক্ষায় আছি!

কিন্তু বাজারের এতো এতো ভেজালের মধ্যে কেন বিশ্বাস করবেন অর্গানিকমুদি‘কে? বিশ্বাস করবেন কারণ, আমাদের হলুদ আর মরিচ গুড়ো –

  • ১০০% ভেজালমুক্ত এবং খাঁটি।
  • বাছাই করা কাঁচামাল থেকে তৈরি।
  • অভিজ্ঞ হাতে মান যাচাই(QC) করে প্যাকেট করা।

 সুতরাং, মিতুর মত হতাশ না হয়ে একবার পরখ করেই দেখুন অর্গানিকমুদির হলুদ আর মরিচের গুড়ো। ইনশাআল্লাহ্‌, নিরাশ হবেন না।

অর্ডার করতে ক্লিক করুন নিচের লিঙ্কে –

হলুদ গুঁড়া

মরিচ গুঁড়া

Categories : Blog

Leave a Reply