ভেজাল মধু চেনার উপায় – যত সব ভুল ধারনা
explore

ভেজাল মধু চেনার উপায় – যত সব ভুল ধারনা

honey

শীত প্রায় এল বলে। রাতে কাঁথা মুড়ি দিয়ে অনেকেই শুতে শুরু করেছেন এরই মধ্যে। আর কিছুদিন পরেই সকালের কুয়াশার সঙ্গে অভ্যস্ত হতে শুরু করবে জনজীবন। আর শীত আসলেই যে খাবারগুলোর চল ঘরে ঘরে বেড়ে যায়, মধু তার মধ্যে অন্যতম।

তবে আমাদের দেশে খাঁটি মধু নিয়ে মিথ কম নয় বৈকি। ‘মধু জমে গেলে সেটা ভেজাল’, ‘খাঁটি মধু পিঁপড়ে খায় না’, ‘নখে মধু রাখলে গড়িয়ে পড়লে সেটা দু নম্বর’ এরকম নানা পরিক্ষা নিরিক্ষার চল এ দেশে বহু আগে থেকে চলে আসছে মধুর খাটিত্ব পরিক্ষার জন্য। তবে বাস্তবতা হল, এসব প্রচলিত পরীক্ষা পদ্ধতি সঠিক তো নয়ই, বিজ্ঞানেও এর কোন প্রমান মেলে না।

প্রচলিত কিছু ভুল ধারনা এবং খণ্ডন

খাঁটি মধু জমে নাঃ

এটি একটি ভুল ধারনা। কারণ, মধুর প্রধান উপাদানগুলোর মধ্যে সুক্রোজ এবং গ্লুকোজ অন্যতম। আর উপযুক্ত পরিবেশে গ্লুকোজ সবসময়ই জমে যায়, যাকে ‘ক্রিসটালাইজেশন’ বলে।

এছাড়াও, মধুতে প্রাকৃতিক পানির পরিমান কম থাকলে ক্রিস্টালাইজড প্রক্রিয়ার সম্ভাবনা বেশী থাকে, যার ফলে মধু জমে যেতে পারে। কিন্তু অনেক মধু জমে না, যেমন – খাঁটি সুন্দরবনের মধু। কারণ, খাঁটি সুন্দরবনের মধুতে পানির পরিমান তুলনামূলক বেশী থাকে। সুতরাং, খাঁটি মধু জমাট বাধে না, এই ধারনা অমূলক।

খাঁটি মধু ঘন হয়ঃ

এটাও একটি ভিত্তিহীন বিশ্বাস। মধুর ঘন ও পাতলা হওয়া মধুর ময়েশ্চারের উপর নির্ভর করে। যে মধুতে ময়েশ্চার বেশী সেই মধু সাধারণত পাতলা হয়। যেমন – বড়ই ফুলের মধু। আবার ময়েশ্চারের পরিমান কম থাকলে মধু ঘন হয়। আর ঋতুর তারতম্যের কারণে ময়েশ্চারের পরিবর্তন খুবই স্বাভাবিক একটি বিষয়।

কাজেই পাতলা মধু হাতের নখে রাখলে স্বভাবতই সেটা গড়িয়ে পরে যাবে, থাকবে না। সুতরাং, এভাবে কখনোই মধুর বিশুদ্ধতা যাচাই সম্ভব না।

আসল মধুতে আগুন ধরেঃ

এটি মধু বিষয়ক কুসংস্কারের মধ্যে অন্যতম। আপনি মধুর সাথে মোম মিশিয়ে দিলে সেটাতে খুব সহজেই আগুন ধরবে। আর ভেজাল ব্যবসায়িরা এই ভুল বিশ্বাসের সুযোগটাই নেয় প্রতারনার জন্য।

খাঁটি মধু পিঁপড়ে খায় নাঃ

মিষ্টি গ্লুকোজ জাতীয় খাবার পিঁপড়ে খাবে না, এটা শুনেই এই তথ্যের অসারতা সম্পর্কে বুঝা যায়। মিষ্টি বস্তুতে পিঁপড়ে ধরবে এটা খুবই স্বাভাবিক, এবং এটা মধুর ক্ষেত্রেও সত্য কারণ মধুর অন্যতম প্রধান উপাদান গ্লুকোজ। কাজেই, পিঁপড়ে খাঁটি মধু খায় না এ ধারনা নিতান্তই ভুল।

খাঁটি মধুর কিছু উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যঃ

  • মধুতে গ্যাস হতে পারে।
  • মধুর উপরের পরতে হালকা ফেনা দেখা দিতে পারে।
  • খাঁটি মধুতে গাদ পরিলক্ষিত হবার সম্ভাবনা আছে।
  • সুক্রোজ ও গ্লুকোজ তলানীতে চিনি জাতীয় এক প্রকার পদার্থ রুপে জমতে পারে।
Categories : Blog

Leave a Reply