হবে নাকি এক কাপ চা?
explore

হবে নাকি এক কাপ চা?

অর্গানিকমুদির চা

ব্যস! ছোট্ট এই কয়টি শব্দ আমাদের দেহমনকে নিমিষেই চনমনে করে তোলার জন্য যথেষ্ট। আর চায়ের সাথে যদি ‘টা’ হিসেবে শিঙ্গাড়া ও পুরি বা ওই টঙের দোকানের নোনতা বিস্কিট টা মিলে যায়, তাহলে কেমন জমবে বলুন তো?

আমাদের দেশে চায়ের প্রতি এই ভালোবাসা আজ নতুন নয়। সুদীর্ঘ কাল ধরে চলে আসা চায়ের এই ট্রেণ্ড আজকের দিনে নতুন এক মাত্রার সংযোজন করেছে। পরিবারের আড্ডা থেকে বন্ধুদের সঙ্গ- কোথায় নেই চায়ের উপস্থিতি?

তবে চায়ের ইতিহাস জানতে হলে ৫০০০ বছর আগের চীনের সম্রাট শেন নাং এর কথা না বললেই নয়। খুব সাস্থ্যসচেতন এই সম্রাট একবার রাজ্যে ঘোষণা দিয়ে দিলেন যে, কেউ যেন পানি না ফুটিয়ে পান না করে। যেমন বলা তেমন কাজ। রাজ্য জুড়ে নিয়ম করে পানি ফুটিয়ে খাওয়া শুরু হল।

একদিন প্রতিদিনকার অভ্যাস মতে তিনি বিশ্রাম করছিলেন একটি গাছের নিচে বসে আর সেই সাথে অভ্যাসমত পান করছিলেন গরম পানি। হঠাৎ তার পান পাত্রে উড়ে এসে পড়ে কিছু অচেনা পাতা যা আগে কখনও দেখেন নি তিনি। পাতা গুলো পানি থেকে সরিয়ে ফেলার আগেই গরম পানির সংস্পর্শে এসে পাতাগুলোর নির্যাস পানির সাথে মিশে পাল্টে যেতে লাগলো পানির রঙ।

পানির সাথে মিশে যাওয়া পাতার মোহনীয় রঙ দেখে আশ্চর্য হয়ে যান শেন নাং। কারণ পানীয় টা দেখতে যেমন ছিল সুন্দর, সেই সাথে মন চাঙ্গা করা একটা ঘ্রান ভেসে আসছিলো সেই পানীয় থেকে। দেরি না করে বিচিত্র এই পানীয়টি একবার চেখে দেখার সখ হল শেন নাং এর। তখনও কি তিনি জানতেন, তিনি আবিস্কার করতে চলেছেন চা নামক যুগান্তকারী এক পানীয়, বিংশ শতাব্দীতে এসে যার কদর এখন বিশ্ব জুড়ে।

চীনা সম্রাটের পাত্রে সেদিন যে পাতা গুলো উড়ে এসে পড়েছিলো সেগুলোর উৎস ছিল ‘ক্যামেলিয়া সাইনেনসিস’ গাছ, যার পাতা এবং কুঁড়ি থেকে আজ উৎপাদিত হয় চা পাতা, যা কিনা বর্তমানে সারা বিশ্বে জনপ্রিয় পানীয় হিসেবে পান করা হয়।

চায়ের আবিস্কারের সেই শুরু থেকেই চীনা মনিষীরা এর গুণ গেয়ে আসছেন মহৌষধি পানীয়ের খেতাব দিয়ে। চীনের মত এশিয়া এবং সেই সাথে ইউরোপের আরও বহু দেশে চা পানের হিড়িক শুরু হয়ে যায় সুস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য। ধীরে ধীরে মানুষ চা জ্বাল দিয়ে ঘন লিকার তৈরি করে পান করতে শিখে, কালে কালে প্রকাশিত হয় চায়ের বিভিন্ন স্বাদ ও রুপ।

তবে আমাদের দেশে চায়ের প্রথম প্রচলন করে ব্রিটিশরা। চায়ের বাজার বাড়ানোর জন্য হাটে গঞ্জে , গ্রামে শহরে ফ্রি চা খাওয়ার ব্যবস্থা করে এরা। তবে যার হাত ধরেই আসুক না কেন, চীনা রাজা শেন নাং এর পছন্দের এই ‘বিশেষ গরম পানি’ যে বঙ্গদেশে অতি সাধারণ নিত্যদিনকার পানীয় অভ্যাসে পরিনত হয়েছে, রাস্তার মোড়ে মোড়ে চায়ের দোকান আর চায়ের প্রতি মানুষের ভালোবাসা দেখে তা বুঝতে মোটেই বেগ পেতে হয় না।

এক কাপ ফ্রেশ পাতা থেকে তৈরি গরম গরম চা সারাদিন কাজের মাঝে আপনাকে দিতে পারে রিফ্রেশমেন্ট, সেই সাথে আপনার ক্লান্ত নার্ভ গুলোতে গতি সঞ্চার করার এ এক মোক্ষম পানীয়।

তবে ইদানিং চা পাতার সবচেয়ে বড় যে অভিযোগ গুলো কানে আসে তা হল, অধিক হারে ব্যবহার করার পরেও কাঙ্ক্ষিত লিকার না আসা এবং স্বাদে তিতকুটে হয়ে যাওয়া। প্যাক এর পর প্যাক চা পাতা খালি হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সেই স্বাদ যেন আর খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছে না!

সেই সাথে আরও আছে ভেজালের আশঙ্কা। কারণ বাজারে অনেক অসাধু ব্যবসায়ী কাঠের গুড়ার সাথে কালো রং বা বার্ণিশ এবং এর সাথে অল্প পরিমাণে আসল চা মিশিয়ে তৈরি করছে ভেজাল চা, যা নামে বেনামে বিভিন্ন চা বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের অনুরুপ নকল প্যাকেট এ বিক্রি করা হয়। দামে সস্তা হওয়াতে বাজারে এর চাহিদাও বেশ।

সাধারণ মানুষকে ভালো পণ্যের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে আর মানসম্মত পণ্যের এক সপ্নের বাজার তৈরি করতেই অরগানিকমুদির যাত্রা শুরু। সেই যাত্রার অংশ হিসেবে ‘চা খোর’ দের সব রকম যন্ত্রনা থেকে মুক্ত করতে আমরা নিয়ে এসেছি খাঁটি এবং বিশুদ্ধ চা পাতার কালেকশন।

আজ থেকে অর্গানিক্মুদি তে পাচ্ছেন শ্রীমঙ্গলের চা বাগানগুলো থেকে সংগৃহীত ১০০% খাঁটি দানার চা পাতা। আমাদের চা পাতা বাজারের অনন্য পাতার থেকে পরিমাণে লাগবে কম, যার ফলে আপনার খরচ বেঁচে যাবে বহুলাংশে। সেই সাথে দারুণ মানের লিকার এবং স্বাদ ও ঘ্রাণ তো থাকছেই!

দারুণ মানের অরগানিকমুদি চা পাতা’র স্বাদ নিতে আজই কনফার্ম করে ফেলুন আপনার অর্ডারটি। স্বাদে , গন্ধে , উষ্ণতায়, ধোঁয়া উঠুক চায়ের কাপে!

Categories : Blog