দেহের সুস্থতায় স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস
explore

দেহের সুস্থতায় স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস

দেহের সুস্থতায় স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস

‘’জীবনে আর আছে কি, ভাল মন্দ একটু না খেলে চলে?’

এই ধরণের উক্তির সাথে আমরা সকলেই কমবেশি পরিচিত। তবে খাওয়ার সময় জীবনের চিন্তা না করলেও শরীরে যখন দানা বাধে বিভিন্ন রোগব্যধি, তখন কিন্তু আমরা অত্যন্ত স্বাস্থ্য সচেতন হয় যাই। ডায়েট, রেগুলার ব্যয়াম, পরিমিত খাদ্য, আরও কত কি!

অথচ শুরু থেকেই খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে গড়ে তোলা সম্ভব একটি সুস্থ জীবন। স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য ব্যয়াম বা ডায়েট, যাই করি না কেন আমরা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ব্যতিত তা প্রায় সবই মূল্যহীন। তো কেমন হতে পারে সেই স্বাস্থ্যকর খাবার চক্র? চলুন জেনে নেই কিছু তথ্য।

প্রয়োজন আমিষজাতীয় খাবার

আমিষজাতীয় খাবার দেহ গঠনের অন্যতম প্রধান উপাদান । প্রতিদিন কিছু পরিমাণ আমিষজাতীয় খাবার গ্রহণ দেহের জন্য প্রয়োজনীয়। তবে সেটা স্বাস্থ্যকর এবং ভেজাল্মুক্ত হতে হবে অবশ্যই।

খাঁটি দুধ, ডিম, মাংস, বিভিন্ন প্রকারের ডাল হতে পারে স্বাস্থ্যকর আমিষের দারুন উৎস।

শর্করাজাতীয় খাবারে ভারসাম্য

শর্করাজাতীয় খাদ্যদেহের প্রতিদিনের পুষ্টি চাহিদার বড় একটি উৎস। তবে অসচেতনভাবে মাত্রাহীন শর্করা দেহে প্রবেশের ফলে দেখা দিতে পারে নানা রোগ।

কিন্তু স্বাস্থ্যকর শর্করা জাতীয় খাদ্য সঠিক মাত্রায় খেলে নিশ্চিত হয় শরীরের সুস্থতা। যেমন আমাদের প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় ভাত, আটা, মুড়ি এগুলো অত্যন্ত সাধারণ শর্করা সমৃদ্ধ খাবার। তবে স্বাস্থ্য ভাল রাখতে হলে সাদা পুষ্টিহীন চালের বদলে লাল চালের ভাত, সাদা রিফাইন আটার বদলে লাল গমের আটা, কেমিক্যালমুক্ত মুড়ির মত স্বাস্থ্যকর শর্করার উৎস বেছে নিতে হবে প্রতিদিনের খাবারের জন্য।

দেহের যত্নে চর্বিজাতীয় খাবার

চর্বিজাতীয় খাবারকে অনেকেই দেহের জন্য ক্ষতিকর ভেবে থাকেন। ধারনাটি সম্পূর্ণ সঠিক নয়। কারণ, দেহের যত্নে ক্ষতিকর চর্বিযুক্ত খাদ্য এড়িয়ে স্বাস্থ্যকর তেল ও চর্বিজাতীয় খাবার গ্রহন করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

তাই খাদ্যতালিকায় সরিষার তেল, মাছের তেল, তিসির তেল, কালোজিরার তেল, জলপাইর তেল, বিভিন্ন রকমের বাদাম, ঘি সহ প্রভৃতি ওমেগা-৩ ও ওমেগা-৬ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ খাবার পরিমিত পরিমাণে প্রাধান্য পাওয়া উচিত।  

খাবার পাতে ফল এবং শাকসবজি

এর কোন বিকল্প নেই। দেহ সুস্থ রাখতে ভিটামিনস ও মিনারেলস অত্যন্ত দরকারি। যার জন্য বিভিন্ন রঙিন ফল ও সবুজ শাকসবজি হতে পারে সবচেয়ে ভালো উৎস। আমের মত মৌসুমি ফল বা কলার মত বারমাসি ফল থেকে শুরু করে পালংশাক, লালশাক, কচুশাক, লাউ, মিষ্টি কুমড়ার মতো শাকসবজি প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় থাকা জরুরি।

খাঁটি মসলার ব্যবহার

বাঙ্গালির রান্নার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যই হচ্ছে, রান্নায় নিয়মিত মশলার ব্যবহার। আর গবেষণায়ও প্রমানিত যে, প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে পেঁয়াজ, রসুন, হলুদ, আদার মতো মসলার ব্যবহার স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। খাঁটি এই সব মসলার খাদ্য উপাদান দেহে ক্ষতিকর ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া নিরোধক হিসেবে কাজ করে। তবে অবশ্যই মশলা খাঁটি হওয়া আবশ্যক।

Categories : Blog

Leave a Reply